অদ্ভুদ একটা মেয়ে/sad love story/valobasar golpo

valobasar golpo


এ যে ভাই, বাসটি কখন ছাড়বে বলতে পারেন?
□ এইতো একটু পরেই! আপনি ভেতরে এসে বসুন।
■সিট কোনটা?
□ এই তো D2 সিট টা আপনার
■ ধন্যবাদ!
■"excuse me"এই সিট টা আমার, So যদি একটু...
ইতিঃ হ্যা Sure!
■ Oh Sorry! তুমি?
ইতিঃ জ্বি, আপনি এখানে?
■ এই তো একটু গ্রামের বাড়িতে যাবো, তুমি কোথায় যাবা?
ইতিঃ আমিও তো বাড়িতে যাচ্ছি...
■ আচ্ছা তুমি তাহলে ওখানেই বসো, সমস্যা নাই
ইতিঃ Thank's...
অনেক দিন পর আজ বাড়িতে যাচ্ছি, আম্মু হয়তো অসুস্থ না হলে এবার ও যাওয়া হতো না।
তবে এবার বাড়ি গেলে আমাকে আর একা ফেরা হবে না, ফিরতে হলে নাকি বউ নিয়েই ফিরতে হবে। এমনটিই জানিয়েছেন বাড়ির বিজ্ঞ বিচারপতি আমার ছোট বোন, আমার জন্য নাকি ওর বিয়েটাই থেমে আছে।
তাই এবার ইচ্ছা থাকলেও অমতের কোন সুযোগ'ই নেই, কি আর করার...... আজ হয়তো শফিক পাশে থাকলে অনেক ভাল হতো, বেচারা একটি মেয়ের জন্য অনেক বাস স্টপে ঘুরেছে, অনেক সময় মেয়েটির দেখাও পেত না। অথচো সেই মেয়েটিই আজ আমার পাশে বসে আছে। বলছিলাম ইতির কথা, মেয়েটিকে খুব ভালবাসতো শফিক, হোস্টেল থেকে ভার্সিটি, লাইব্রেরী, সপিং মল যেখানেই ইতি যাক না কেন শফিক ওর পিছে আঠার মতো লেগে থাকতো অথচো এত চেষ্টার পরও ইতির মন ভোলাতে পারিনি।
অবশেষে অন্য একটা মেয়েকেই বিয়ে করতে হয়, এত বড় লোকের ছেলে! দেখতেও অনেক সুন্দর, স্মার্ট! অথচো ইতি যে কেনো
শফিক কে বিয়ে করলো না, বড়ই অদ্ভুদ মেয়েটি! কখনো কোন ছেলেকেই সয্য করতে পারে না......!
ইতিঃ শুনলাম শফিক ভায়ের নাকি বিয়ে হয়ে গেছে?
■ হ্যা, তাও প্রায় তিন চার মাস হলো...
ইতিঃ ওহ! অনেক ভাল করেছে
■ আচ্ছা ইতি, তোমাকে একটা কথা জ্ঞিগাস করবো?
ইতিঃ বলুন...
■ শফিক কি তোমার সাথে খুব'ই বেমানান ছিলো?
ইতিঃ না! না! ভাইয়া, তা কেনো হবে?
■ তাহলে তুমি ওকে...
ইতিঃ আচ্ছা ভাইয়া, কেও যদি কখনো আপনাকে শুধু দুহাত ভরে দিয়েই যাই, আর তার বিনিময়ে যদি একটি মাএ জিনিস চাই, তাহলে আপনি কি তাকে ফেরাতে পারবেন?
■ কখনোই না...
ইতিঃ তাহলে বলুন আমি কিভাবে ফেরাবো?
■ মানে?
ইতিঃ আসলে আমার বাবার অনেক ইচ্ছা, আমি যেনো তার ছোট বেলার বন্ধুর ছেলেকেই বিয়ে করি, আর এজন্য...! আমার বাবাতো আমার কোন ইচ্ছা কখনো অপূর্ন রাখেন নি, তাহলে আমি কিভাবে তার অবাধ্য হয় বলুন?
■ কিন্তু এযুগের মেয়েরা তো...
ইতিঃ আচ্ছা ভাইয়া! পৃথিবীর সবাই কি সমান হয়?
■ সে হয়তো হয় না, তবুও.....!
ইতিঃ আসলে আমারো অনেক ইচ্ছা, যেন তেনো সম্পর্ক না করে বিয়ের পরেই না হয় ভালবাসবো।
■ তুমি আসলেই অনেক অদ্ভুদ!
ইতিঃ হি হি হি...
সেদিন একরাশ হাসিতে পুরো বাসটিতেই যেনো অদ্ভুদ এক ছন্দতে মাতিয়ে ছিলো মেয়েটি, কি অপরূপ হাসি! ঠিক যেনো প্রতিমার মতো... জিবনে অনেক মেয়েকেই দেখেছি, কিন্তু এমনটি করে হয়তো আর কাউকেই দেখা হয়নি! মাঝে মধ্যে একটু আধটু চুরি করে ওকে দেখছিলাম কিন্তু চুরি বিদ্যায় নিতান্তয় কাঁচা, তাই সহজেই ধরা খেতে হলো।
হঠ্যাত দেখি গাড়ির বক্সে একটা গান বেজে উঠলো "তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়! সে কি মোর অপরাধ?"
ইতিঃ ভাইয়া ফেরীঘাটে তো এসে গেছি, আশে পাশে কি কোন হোটেল পাওয়া যাবে? খুব ক্ষুদা লেগেছে!
■ ওহ, আমারো অনেক ক্ষিদা লাগছে! চলো...
ইতিঃ জ্বি চলুন
■ আচ্ছা ফেরীতে উঠলে তোমার ভয় লাগে না?
ইতিঃ নাহ! কেনো আপনার লাগে?
■ হুম, ভয় লাগে মানে! ছোট বেলায় যখন ফেরীতে উঠতাম,তখন কাছে যতো পানির বোতল থাকতো সব খালি করে নিতাম।
ইতিঃ কেনো?
■ আরে, ফেরীটা যদি ডুবে যাই তাহলে ঐ খালি বোতল গুলো নিয়ে সাতার কাটবো...
ইতিঃ হি হি হি!
■ আচ্ছা তুমি হোটেলে যেয়ে বসো, আমি একটা পানি নিয়ে আসি...
ইতিঃ কেনো আবার সাতার কাটবেন নাকি?
■ হা হা, আরে নাহ! খাবার জন্য, এখানকার পানি অনেক লবনাক্ত, তুমি যাও আমি আসছি...
ইতিঃ আচ্ছা!
কি অদ্ভুদ একটা মেয়ে, পবীএতার হাসিতে যেনো মুখে সপ্তর্শির আলো ছড়াচ্ছে, সত্যিই বড় অদ্ভুদ!
অদ্ভুদ এ পৃথিবী, সবাই যেখানে অদৃশ্য কোন না কোন মোহে জড়িয়ে আছে, সেখানে এই মেয়েটি হয়তো নিতান্তই একটি শিশু সমতুল্য! সেদিন দোকান থেকে পানি কিনে এসে দেখি পাশের রাস্তার উপরে মানুষের অজস্র ঢল নেমেছে ভাবলাম হয়তো কোন চোর বা পকেটমার ধরা পড়েছে, তাই সামনের লোকজন সরিয়ে একটু ভিতরে ঢুকলাম, কিন্তু আমার জিবনে যে কখনো এতটা মর্মান্তিক মূহর্ত আসবে সেটা হয়তো কখনো সপ্নেও ভাবিনি!
দেখলাম একটা মেয়ে ছিন্ন ভিন্ন অবস্থায় রাস্তাতে পড়ে আছে! বুঝলাম যে মেয়েটি আর অন্য কেউ নয়"ইতি"
রাস্তা ক্রসিংয়ের সময় নাকি একটা ট্রাক এসে নির্মম ভাবে ওকে চাপা দিয়ে গেছে... মৃত্যুটা হয়তো আজ দেহ থেকে শুধু চেতনাটায় নিয়ে গেছে, কিন্তু লাবণ্যময়ি সেই হাসিটা কাড়ার ক্ষমতা বিধাতা তাকে দেয়নি, এই হাসিটা যে আল্লাহ নিজের হাতেই দিয়েছেন!
দেখে যেন মনে হয় একটা শিশু কেবল মায়ের বুকে ঘুমিয়ে গেলো সেদিন সারাটা পথ শুধু কেঁদেছিলাম, আল্লাহ আমার চোখে তুমি কেনো এতো পানি দিয়েছো? দিয়েছো'ই যখন মেয়েটার জিবন ফিরিয়ে দিতে পারোনি? কিই বা করেছিলো মেয়েটা? সব থেকে বড় সার্থপর তো তুমি নিজেই, যাকেই ভাল লাগে তাকেই কাছে টেনে নাও!
এটা তোমার কেমন বিচার? যদি তুমি মৃত্যুই দেবে তবে কেনো জন্ম দিয়েছিলে? জানি আজ কিছুই বলবে না...! সেদিন বাড়িতে পৌছাবার পর ছোট বোনটা এসে বল্ল, ভাইয়া দেখনা তোর বউটা কত্ত সুন্দর! আমার থেকেও অনেক সুন্দর, দেখিস তোর সাথে অনেক সুন্দর মানাবে, দেখনা একবার ছবিটা...
■ প্লিজ ওসব এখন সরা আপু! আম্মু কোথায়? আম্মু কে বল আমি ঘুমাবো, বিছনাটা করে দিতে। অন্তিঃ আচ্ছা বলছি, এই নে তোর বউ এর ছবি! দেখলে দেখ না দেখলে ছিড়ে ফেল... এলবামটা সামনে মেলতেই দেখলাম, একটা মেয়ের ছবি! হাসিটা অনেক চেনা, লাবণ্যময়ী এক হাসিটা যেনো আমাকে ইশারা দিয়ে ডাকছে..."ভাইয়া আমার না খুব ক্ষুদা লেগেছে! চলুন না একটু খেয়ে আসি......!!!!

Comments

Popular posts from this blog

শেষ প্রহরের বিষণ্নতা.../valobasar golpo

অপূর্ব সত্তিকারের ভালোবাসা/valobasar golpo

প্রতিধন্ধী ভালোবাসা/valobasar golpo