পেয়েও আবার হারালাম/sad love story/valobasar golpo

valobasar golpo


তনয় খুব অবাক হয়ে মোবাইলের দিকে তাকালো। প্রায় এক বছর পর রুবিনার নাম্বার থেকে কল।
মোবাইলের স্ক্রীনে খুব সুন্দর করে লেখা- STAR is calling… এক বছর আগে তনয়ের সাথে রুবিনার ব্রেক আপ হয়ে যায়।
সব ঠিকঠাক, হঠাৎ এক বৃহস্পতিবার রাতে রুবিনা জানালো, “আমি রিলেশনটা কনটিনিউ করতে পারবো না।
আমি সিরিয়াস।” তনয় আধো বিশ্বাস আধো অবিশ্বাসে দুলতে দুলতে বললো, “কেনো? কী হইছে? দুস্টামি বাদ দাও…” রুবিনা খুব নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে উত্তর দিলো, “আমার আরো একজনকে ভাল লেগেগিয়েছে, তার সাথে রিলেশনও হয়েগিয়েছে।
আমি সেটাই কনটিনিউ করতে চাই। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দেও তোমার আমাকে ভুলতে হবে।
বিশ্বাস করতে পারছিলো না তনয়।
বললো, “আরে ধুর, ফাইজলামি করো ক্যান!” ফোন কেটে দেয় রুবিনা।
এরপর অনেক চেষ্টা করেও আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি রুবিনার সাথে। সেদিন সারা রাত তনয় রুবিনার মোবাইলে কল করে কিন্তু বার বার একই উত্তর আসে waiting... waiting....।
সকাল সাতটা পর্জন্ত! তারপর সপ্তাহ দুয়েক পর তনয় খবর পেয়েছিলো, রুবিনা নতুন মানুষটিকে নিয়ে শুখেই আছে।
নিজেকে ধিরে ধিরে গুছিয়ে নেয়।
এ পর্যন্তই।
রুবিনা নামটা তনয়ের প্রতি রাতের চোখের জলে আর ফোনবুকের 'STAR' নামের আড়ালেই রয়ে গেলো।
এমন অদ্ভুত অপ্রত্যাশিত ব্রেক আপের পর আজ আবার রুবিনা কল।
তনয় বুঝে উঠতে পারে না কী করবে। শেষমেষ কলটা রিসিভ করলো। -হ্যালো? (যতটা না অভিমান কিংবা কষ্ট, তার চেয়েও বেশি কৌতুহল ভরা কন্ঠে বললো।) =কেমন আছো? (রুবিনার কন্ঠটা আগের মত আর বাচ্চা বাচ্চা নেই। নারীত্বের ছাপ স্পষ্ট।)
-বেঁচে আছি। (রাগ আর কষ্ট নিয়ে উত্তর দিল।) =তনয় আমি খুব সরি… (রুবিনার কান্না কান্না কন্ঠ!)
-বাদ দাও। তারপর কেমন আছো? খুব সুখেই আছো নিশ্চয়? (রুবিনার কথা শেষ না হতেই তনয় বলল।) =আমি রিয়েলি অনেক সরি। প্লিজ.. (কেদে কেঁদে বলতে থাকল রুবিনা!)
-বিএফ কেমন আছে? (রাগ আর কষ্ট নিয়ে প্রস্ন করল।) =তনয় প্লিজ… আমাকে মাফ করে দাও… (রুবিনার হাহাকার করে কাননার শব্দ!)
-কেন আমার জীবন এভাবে ধ্বংস করলে? কে দিয়েছিল এই অধিকার তোমাকে? (তনয় চিৎকার করে প্রস্ন করল!) =স্টপ! স্টপ ইট।
(ওপাশ থেকে চিৎকার করে ওঠে রুবিনা। সেই সাথে শোনা গেলো কান্নার আওয়াজ…)
-“এমন করলা কেন আমার সাথে?” (কান্নার শব্দ শুনে তনয় শান্ত হয়ে চুপ হয়ে গেল… শান্তভাবে বললো তনয়) রুবিনা কাঁদতে কাঁদতে অনেক কথা বললো। কথাগুলোর সারমর্ম করলে যা দাড়ায়, তা হচ্ছে- যে ছেলের সাথে রুবিনা রিলেশন করেছিল।
সে ছেলিটি রুবিনা কে ছেরে অন্য একজনের সাথে চলে গিয়েছে। কোন কারন ছারাই নতুন করে নতুন মানুষের সাথে ঘড় বাধছে।
মাঝে রুবিনার সাথে বিয়েও হয়েছিল কিন্তু… আর টিকেনি।
-“তুমি কোথায় এখন? দেখা করো প্লিজ… এই মুহুর্তে…” (অভিমানী প্রেমিকের সব দম্ভ নিমেষেই চুরমার হয়ে গেল।)
তনয় কাঁদতে কাঁদতে বলতে শুরু করলঃ আমি জানতাম আমি বাদে এ পৃথিবীর কেউই তোমাকে বুঝবে না।
তুমি কেন আমাকে ছেঁড়ে চলে গেলে। বোকা মেয়ে তুমি এত বোকা কেন? কান্না থামাও আমি,... আমি আসছি এখনি তুমি কোথায় আছ...। (তনয় আবার থেমে থেমে বলল) এত কাঁদো কেন? অবশ্য ভালোই হইছে।
আমাদের সংসারে লবন কিনতে হবে না।
তোমার চোখের পানিতেই রান্না হয়ে যাবে! রুবিনার কান্নার বেগ আরো বেড়ে গেল।
(চুপ করে সব শুনতে থাকল!) -আমি আসছি এখনি তুমি কোথায় আছ…। (তনয় চিৎকার করে জানতে চাইল… )
কোন উত্তর ছাড়াই ফোনটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।
তনয় চিৎকার করে কানতে শুরু করল। মোবাইলে চার্জ শেষ।
আরেকটা মোবাইলে সিম ঢুকাতে ঢুকাতে ১০ মিনিট লেগে গেল। কিন্তু ঐ নাম্বারে কল করে শুনতে পেল অন্য একটি চির পরিচিত নারীর কন্ঠ… “the number you have dialed, it is switch off”।
তনয় এক রাত... এক দিন... এক সপ্তাহ... এক মাস... এক বছর.... পর আজও ঐ নাম্বারে কল করে কিন্তু আর খুজে পাইনি হারিয়ে যাওয়া সেই রুবিনাকে।
প্রস্ন করে হারিয়ে গিয়েছিলে আবার কেন এলে? নিজেকে প্রতি মুহুর্তেই দোষ দেয় মোবাইলের চার্জের কারনে আর ভাবে রুবিনা হয়ত বা ভুল বুঝেছে যে আমি ওর ফোনে বিরক্ত হয়ে ফোনটা কেটে দিয়েছিলাম।
সুন্দর সাজানো জীবনটা আবার অগোছালো হয়ে গেল। এখন নিজের চোখের জলেও সে রুবিনার নোনা পানির স্বাদ পায়! এই তো,… এই ছিল রুবিনা আর তনয়ের ভালোবাসার গল্প…,

Comments

Popular posts from this blog

শেষ প্রহরের বিষণ্নতা.../valobasar golpo

অপূর্ব সত্তিকারের ভালোবাসা/valobasar golpo

প্রতিধন্ধী ভালোবাসা/valobasar golpo