আনিতা আর সবুজ/ valobasar golpo

valobasar golpo


তোমার তো এখানে বসে থাকার কথা ছিলনা।
তবে এখানে কেন বসে আছ? 
সবুজ কে শাসানোর মত করে কথা গুলো বলতে থাকে আনিতা।
পাক্কা ১৫ মিনিট ধরে পুরো পার্ক তন্ন তন্ন করে সবুজ কে খুজেছে আনিতা।
দুজনের দেখা করার কথা ছিল পার্কের অন্য কোনায় যেখানে অনেক গুলো ফুল গাছ আছে।
লাল রঙের ফুল আনিতার খুব পছন্দ।
সবুজ আনিতা কে সবসময় লাল রঙের ফুল দিয়েই প্রপোজ করে। পার্কে আসলে যখনই আনিতার অভিমান হয় তখনই গাছ থেকে একটা লাল ফুল এনে আনিতা কে দেয়।
আজ সে ধরনের কোনো সুযোগ নেই।
আনিতা দিকে না তাকিয়েই সবুজ জবাব দিতে থাকে।
*এখানে অনেক ঘাস আছে তাই বসে আছি।
-তুমি কি ছাগল যে ঘাস দেখে বসতে হবে?
*আমি ঘাস দেখে বসিনি, ঘাসের উপর বসে আছি। চাইলে তুমিও বসতে পার।
-আমি তোমার মত ছাগল না।
*আমি জানি তুমি ছাগল না। ছাগলের স্ত্রী লিঙ্গ ছাগী।
-কি আমাকে তুমি ছাগী বললে!!!!????
*এখনো বলিনি। তবে ছাগলের বউ ছাগীই হয়।
-আমি তোমার বউ না।
*আমি তো বলিনি তুমি আমার বউ।
-এত কথা প্যাঁচাও কেন? তুমি একটা রামছাগল।
*রামছাগলের তুর্কি দাড়ি থাকে। আমি একদম ক্লিন শেভ।
-ওহ অসহ্য! কেন যে তোমার মত ইডিয়ট এর সাথে প্রেম করি?
*আমরা প্রেম করছি না। আমরা ঝগড়া করছি।
-তোমার মত #রামছাগলের সাথে আমার ঝগড়া করতে বয়েই গেছে?
*আমি একটু আগেই শেভ করে এসেছি।
আমার দাড়ি উঠলে হালকা চাপ দাড়ি ওঠে তা তুমি জানো
-শেভ করেছ কেন? আমার হালকা চাপ দাড়িই ভাললাগে।
*তোমার মুখে কখনো দাড়ি দেখিনি। আগে তো জানতাম না তোমার দাড়ি হয়!!
-আমাকে কটা টাকা ধার দাও তো
*কি করবে?
-প্রথমে একটা পিস্তল আর গুলি কিনব। তারপর তোমাকে গুলি করে মারব। গরু কোথাকার।
আমি কি আমার দাড়ির কথা বলেছি?
*আমার কাছে সিগারেট কেনার টাকা থাকে। পিস্তল কেনার নয়
-কি তুমি সিগারেট খেয়েছ!!??
*সিগারেট খেলে ক্যান্সার হয়ে মরার সম্ভাবনা আছে। তোমাকে আর কষ্ট করে মারতে হবেনা।
-একদম অলক্ষুনে কথা বলবে না।
গরু ছাগল ভেড়া কোথাকার, বসে বসে ঘাস খাও প্রিয়তমার মুখ থেকে গরু ছাগল ভেড়া ডাক শুনতে খারাপ লাগে না।
বরং ভালই লাগে। অন্যান্য প্রেমিকের মত সবুজও তার ব্যাতিক্রম নয়।
সব প্রেমিক অবশ্য সিগারেট খায় না।
আনিতা যেইসব বিষয়ে রেগে যায় সবুজ সেইগুলোই বেশি করে।
এভাবে রাগানোর ভিতর একটা ভালবাসা থাকে।
আনিতা কে এভাবে রাগানোর অধিকার শুধু সবুজেরই আছে।
*আমি ঘাস খাচ্ছিনা। আমি বাদাম খাচ্ছি।
-কই এতক্ষন তো খেয়াল করিনি! বাদাম কেন খাচ্ছ? আনিতার খেয়াল করার কথা না।
কারন ও এখনো সবুজের সামনে যায়নি।
পেছন থেকেই কথা চালিয়ে যাচ্ছিল।
তাই ঘাস খাওয়া আর বাদাম খাওয়ার পার্থক্য ধরতে পারেনি।
*বাদাম খেলে ত্বক ভাল হয়।
-হঠাত ত্বক ভাল করার নেশা চাপল কেন?
*আরেকটা প্রেম করব তাই
-তুমি আমাকে ছেড়ে আরেকটা ডাইনির সাথে প্রেম করবে!!?? ভালবাসার ভাগ কেও দিতে চায়না। আনিতাও তার ব্যাতিক্রম নয়।
সবুজ অন্য মেয়ের দিকে তাকালেই সেই মেয়ে আনিতার  কাছে ডাইনি। 
*তুমি যে ডাইনি তাতো জানতাম না।
-আমি ডাইনি না, তুমি যার সাথে প্রেম করবে তাকে ডাইনি বলেছি।
আনিতার প্রিয় রং নীল নয়, কালো।
রাগে আনিতার মুখের রং কালো হয়ে গেছে।
নীল হওয়ার কথাও নয়। কারন নীল বিষাদের রং।আনিতার মনে বিষাদ নেই।
সেখানে শুধুই আছে সবুজেের ভালবাসা। 
*ও ডাইনি না। ওর নাম আনিতা
-থাকো পড়ে তোমার আনিতা কে নিয়ে। আমার সাথে কথা বলতে আসবে না।
রেগে গেলে আনিতা নিজের নাম ভুলে যায়।
সবুজ আনিতা কে অযথা রাগাতে ভালবাসে এটা আনিতাও জানে।
"ভালবাসায় মান অভিমান না হলে ঠিক জমে না" এটা কোনো মনিষী বলেছেন কিনা আনিতা বা সবুজ কারোরই জানা নেই।
হয়ত জগতের কোনো প্রেমিক প্রেমিকারই জানা নেই। তবু সবাই মান অভিমানের খেলায় মেতে ওঠে। রাগারাগি মান অভিমান ভালবাসার মাঝে অলিখিত চুক্তি।
*আমার পাশে একটু বসবে? জায়গাটা পরিষ্কার আছে।
-না বসবো না। তুমি একটা ফাযিল।
আমার মন নিয়ে খেলা করবে।
আমার মন নরম। তাই যখন তখন তোমার খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে হবে।
*একটু বসো। আমি তোমার মন নিয়ে খেলব না। তোমার চুলগুলির সাথে দুষ্টুমি করবো। তোমার চুলের মিষ্টি ঘ্রানে মাতাল হয়ে যাব
- এহ শখ কত! আমি মাতাল ছেলেকে পছন্দ করিনা। কথাটা বলতে বলতেই আনিতা সবুজর পাশে বসল। যখন ভালবাসাটা অনুভব করা যায় তখন প্রেমিক প্রেমিকা দুজনেই মাতাল হয়ে যায়।
আবল তাবল কথা বলতে ভাল লাগে। আনিতাও এখন মাতাল সবুজের ভালবাসায়। আচ্ছা মাতালের স্ত্রী লিঙ্গ কি? না থাক।
সব ক্ষেত্রে ব্যাকরন টানলে চলে না।
ভালবাসার কোনো ব্যাকরন হয় না।
*ফুচকা খাবে? ফুচকা খেলে মাতাল হওয়ার চান্স নেই
-না।
যা খাচ্ছিলে তাই খাব বাদামের খোসাগুলো আনিতার দিকে এগিয়ে দিল সবুজ।
দু চারটা বাদামের খোসা মুখে চালান করে দিল আনিতা।
আস্ত একটা মাতাল মেয়ে।
বাদামের খোসাও চেনে না।
সেগুলো দিব্যি চাবিয়ে যাচ্ছে।
একটু দেরিতে চিনলেও সবুজ কে তাড়া দিতে দেরি করলো না আনিতা।
পার্কে একটা ছেলে দৌড়াচ্ছে, একটা মেয়ের তাড়া খেয়ে।
তারা হাপিয়ে গেলে ফুচকা ওয়ালার সামনে থামবে। ফুচকার খোসাগুলো বাদামের খোসার মত নয়।
ওটা খাওয়া যায়।
ভালবাসায় বিভোর জোড়া গুলো এভাবেই যুগে যুগে মাতলামির সংজ্ঞা বদলে দেবে।

Comments

Popular posts from this blog

শেষ প্রহরের বিষণ্নতা.../valobasar golpo

অপূর্ব সত্তিকারের ভালোবাসা/valobasar golpo

প্রতিধন্ধী ভালোবাসা/valobasar golpo