বিপ্লব+তাজিম/ valobasar golpo
![]() |
| valobasar golpo |
সবার কাছে আমাদের একটাই অনুরোধ।
আমাদের দেহগুলো দয়া করে কাটতে দেবেন না। পাশাপাশিই আমাদের কবর দেবেন।
আর সবাই আমাদের ক্ষমা করে দেবেন।
আমরা একজন আরেকজনকে ছাড়া বাঁচতে পারব না। তাই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলাম।
বেঁচে থাকতে তো কেউ আমাদের এই সম্পর্ক মেনে নেবে না।
বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়ে তাদের মনেও কষ্ট দিতে পারব না।
তাই এই পথ বেঁচে নিতে বাধ্য হলাম দুজন। ইতি: বিপ্লব+ তাজিম।
পাঠক, এটি একটি সুইসাইড নোট।
দুই তরুণ-তরুণীর আত্মহননের আগে
এই চিরকুট লিখে গেছেন। ঢাকা, ১৯ জুন গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত্যুর আগে অভিভাবকেরা তাঁদের সম্পর্ক মেনে না নিলেও পাশাপাশি হয়েছে শেষ আশ্রয়।
বাড়ির পাশের আজিমপুরে শুয়ে আছে এই জুটি। এখনো তাদের কবর।
কবরে গুঁজে দেওয়া খেজুর গাছের ডাল গুলো এখনো সতেজ।
বিপ্লব (২৮) ও তাজিম আকতার (২১)। ঢাকায় সামনাসামনি দুজনের বাড়ি।
দূরত্ব বড়জোর ২০০ গজ।
সম্পর্কে বেয়াই-বেয়াইনও (বন্ধুর শালির বান্ধুবী)।
পাশাপাশি থাকার সুবাদে কাছাকাছি আসে একে অপরের।
একসময় দুটি তরুণ মন স্বপ্ন দেখে ঘর বাঁধার।
কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় দুই পরিবারের দ্বন্দ্ব।
এই দ্বন্দ্বও আরেকটি প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে। তিন বছর আগে বিপ্লব এর বড় ভাই আশিক আর সুখীর বড় বোন মুনিয়া ভালোবেসে বিয়ে করেছেন। এ সম্পর্ক এখনো মেনে নেয়নি দুই পরিবার।
এই বিষয়টি বারবার ঘুরপাক খেতে থাকে দুজনের মাথায়।
কী করবেন তাঁরা। পরিবার, না সম্পর্ক—এই টানাপোড়েনে মুষড়ে পড়েন বিপ্লব ও তাজিন।
শেষ পর্যন্ত জীবনকে ছুটি দিয়ে দিলেন এই দুই তরুণ-তরুণী।
মরণেও দুজন দুজনকে ছাড়া ভাবতে পারেননি কোনো কিছু।
সেখানেও সহমরণ।
তাজিনদের বাড়ির পেছনের একটি জামগাছের ডালে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন দুজন একসঙ্গে।
একে অপরকে কোমরে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁদের মরদেহ।
নিশ্চিত হওয়া গেছে, সুইসাইড নোটটি তাজিন এর হাতের লেখা।
গত মঙ্গলবার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, ঘরের দাওয়ায় বসে আছেন মা জোবেদা খাতুন।
মুখে কথা নেই।
শুধু এদিক-ওদিক তাকাচ্ছেন। মেয়ের জন্য এখনো বিলাপ করে চলেছেন বাবা মোহাম্মদ ইদ্রিস।
বাড়ির ভেতরে তাজিন এর কক্ষে পড়ার টেবিলে থরে থরে সাজানো পাঠ্যবই রসায়ন, বাংলা...। খাতাও পড়ে আছে টেবিলের ওপর। শুধু সুখী নেই।
তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট তাজিন। ভাইদের বড় আদরের ছিল সে।
বোনের মৃত্যুসংবাদ শুনে ওমানের মাসকাটে থাকা দুই ভাই ছুটে এসেছেন এক নজর শেষ দেখা দেখতে। ভাইদের জন্য মরদেহের গাড়িতে লাশ রেখে দেওয়া হয় দুদিন।
তাঁরা আসার পর দাফন করা হয়।
বাবা ইদ্রিস বলেন, ‘আমরা ঘুণাক্ষরেও টের পাইনি ও (তাজিন) এ কাজ করবে।
শান্তশিষ্ট, পড়ালেখায়ও ছিল ভালো।
ছেলেটিও (বিপ্লব) ছিল শান্ত।
আমাদের মাথায় ছিল না তারা দুজন এমন করবে।’ মাসকাট থেকে আসা তাজিন এর ভাই ফারুক বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছা ছিল তাঁকে ডাক্তারি পড়াব।
এখন সব শেষ।’বিপ্লব এর বাড়িতেও শোকের মাতম। ছয় ভাই একবোনের সবার ছোট বিপ্লব। তিনি চলে গেলেন সবার আগে। বাবা সালেহ আহমেদ থাকেন সৌদি আরবে। ছেলের মৃত্যুসংবাদ শুনে তিনিও মুষড়ে পড়েছেন।
এ ঘটনা মানতে পারছেন না তাজিন এর বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও।
কথা বলার সময় শ্রেণী শিক্ষক ফণী ধর দাশের গলা ধরে আসছিল।
বললেন, ‘সে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত প্রথম অথবা দ্বিতীয় হয়ে এসেছে।
কিন্তু নবম শ্রেণীর শেষ দিকে এসে সে প্রায়ই বিষণ্ন থাকত। যার প্রভাব পড়ে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলে। রোল নম্বর হয় ১১।
আমি নানাভাবে তার কাছ থেকে জানার চেষ্টা করেছি কি হয়েছে। কিন্তু কিছু বলেনি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘এ ঘটনার পর আমরা প্রতিটি শ্রেণীতে কাউন্সেলিং করেছি।
শিক্ষার্থীদের বলেছি, এ ধরনের ঘটনা হলে পারিবারে বলতে না পারলেও যেন শিক্ষককে জানায়।
আর অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে।’বিপ্লব এর বন্ধুরা জানান, তিনি প্রায় সময় তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে হতাশ থাকত।
বলত, ‘দেখিস, একদিন সব ছেড়ে চলে যাব।’
এ যাওয়া যে শেষ যাওয়া হবে, তা বোঝেননি বন্ধুরাও।
ঘটনা সম্পুরনো কাল্পনিক,তার কোন বাস্ততা নেই।,,,,,

Comments
Post a Comment